তীব্র তাপদাহে হাঁসফাঁস নড়াগাতীর ছয় ইউনিয়নের মানুষ, বৃষ্টির অপেক্ষায় জনজীবন।

লেখক: মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ ঘন্টা আগে

তীব্র তাপদাহে হাঁসফাঁস নড়াগাতীর ছয় ইউনিয়নের মানুষ, বৃষ্টির অপেক্ষায় জনজীবন

মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী,বিশেষ প্রতিনিধি :

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া, খাশিয়াল, বাঐশোনা, জয়নগর, মাউলী ও পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির দেখা না মেলায় খাল-বিল, মাঠ-ঘাট ও গ্রামীণ জনপদজুড়ে বিরাজ করছে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। দিনের বেলায় প্রখর রোদ আর রাতেও ভ্যাপসা গরমের কারণে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।স্থানীয়রা জানান, আকাশে মাঝেমধ্যে কালো মেঘের আনাগোনা দেখা গেলেও বৃষ্টির দেখা মিলছে না। মেঘ দেখলেই মানুষ আশায় বুক বাঁধে, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তা মিলিয়ে যায়। ফলে গরমের তীব্রতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে টিনের ঘরে বসবাসকারী পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে। দিনের বেলায় ঘরের ভেতর আগুনের চুল্লির মতো গরম অনুভূত হচ্ছে।তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। জীবিকার তাগিদে তাদের বাইরে বের হতে হলেও দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে মাঠে কাজের সময় কমিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।এদিকে তাপদাহের কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগবালাইও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও গরমজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দেখা দিচ্ছে।নড়াগাতীর বিভিন্ন বাজার, হাট ও জনসমাগমস্থলেও গরমের প্রভাব স্পষ্ট। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। দুপুরের দিকে অনেক সড়ক ও বাজার প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। চায়ের দোকান, বাজার ও বিভিন্ন আড্ডাস্থলে এখন একটাই আলোচনা—কবে নামবে বৃষ্টি, কবে মিলবে স্বস্তি।পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক ওদুদ চৌধুরী বলেন, “মেঘ দেখলে মনে হয় আজ বুঝি বৃষ্টি হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই হয় না। জমিতে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”খাশিয়ালের তৈয়ব দিনমজুর বলেন, “রোদ আর গরমে মাঠে বেশিক্ষণ থাকা যায় না। কাজ না করলে সংসার চলে না, আবার কাজ করতে গেলেও শরীর টেকে না।”কলাবাড়িয়া থেকে মাউলী, জয়নগর থেকে বাঐশোনা—সবখানেই মানুষের একই প্রত্যাশা, দ্রুত বৃষ্টিপাত শুরু হোক এবং প্রকৃতি ফিরে পাক তার স্বাভাবিক রূপ।এলাকাবাসীর কণ্ঠে এখন একটাই আকুতি,রোদ দে, বৃষ্টি দে, ছায়া দে—এই দহন থেকে মুক্তি দে।”