
৮৫% মুসলিম অধ্যুষিত আসনে উপবৃত্তি পেলেন কেবল ৩২ হিন্দু শিক্ষার্থী: মাগুরা-২ আসনে স্বজনপ্রীতি নাকি কাকতালীয়
নিজস্ব প্রতিনিধি মাগুরা
একটি নির্বাচনী এলাকার ৮৫ শতাংশ মানুষই মুসলিম। অথচ সেই এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপবৃত্তি পেলেন যে ৩২ জন শিক্ষার্থী, তাদের প্রত্যেকেই একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের! কোনো ভুল শুনছেন না, এমনই এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে মাগুরা-২ আসনে। আর এই তালিকাটি অনুমোদিত হয়েছে খোদ স্থানীয় সংসদ সদস্য নিতাই রায় চৌধুরীর সুপারিশে।
সরকারি সহায়তা বন্টনে মেধা আর দারিদ্র্য নাকি ধর্মীয় পরিচয়—কোনটি প্রাধান্য পেল? এই প্রশ্ন এখন মাগুরার আনাচে-কানাচে।
সম্প্রতি মাগুরা-২ আসনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকাটি সামনে আসতেই রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার বিপুল সংখ্যক যোগ্য, অসচ্ছল ও মেধাবী মুসলিম শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে, তালিকার শতভাগ নামই রাখা হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ, সরকারি তহবিল কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। যেখানে মাগুরা-২ আসনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, সেখানে একজন মুসলিম শিক্ষার্থীরও নাম তালিকায় না থাকাটা কোনো সাধারণ ‘ভুল’ হতে পারে না। স্থানীয়রা একে স্পষ্ট ‘ধর্মভিত্তিক বৈষম্য’ এবং ‘স্বজনপ্রীতি’ হিসেবে দেখছেন।এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও উত্তেজনা চললেও, রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সংসদ সদস্য নিতাই রায় চৌধুরীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, তাঁর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসন কিংবা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউই এখন পর্যন্ত এর কোনো সুনির্দিষ্ট বা যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এটি কি শুধুই একটি কাকতালীয় ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর কোনো পক্ষপাতিত্ব? সরকারি সুবিধার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং এই তালিকার পেছনের প্রকৃত সত্য বের করতে এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলছেন মা
গুরার সাধারণ মানুষ।
