শ্যামনগরে শিক্ষক জালিয়াতি ও প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা!তোপের মুখে মাউশি ডিজি।

লেখক: ফয়েজ আহমেদ নিজস্ব প্রতিবেদক শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

শ্যামনগরে শিক্ষক জালিয়াতি ও প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা!তোপের মুখে মাউশি

ডিজি ফয়েজ আহমেদ নিজস্ব প্রতিবেদক শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ বাস্তবায়ন না করায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আদালত অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে এ রুল জারি করা হয়।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৯ জুন এ রুল জারি করেন। রুলে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীকে কারণ দর্শিয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক আরিফা এদিব চৌধুরীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমিতে (নেকটার) সনদ যাচাইয়ের আবেদন করেন। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর নেকটার লিখিতভাবে জানায়, উক্ত সনদটি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যু করা হয়নি এবং এটি সম্পূর্ণ জাল।

সনদ জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ওই শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মাউশির ডিজির কাছে তার এমপিও বাতিলের আবেদন জানান। তবে অভিযোগ রয়েছে, নেপথ্যে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট ওই বিতর্কিত শিক্ষককে পুনরায় বিদ্যালয়ে পুনর্বহাল করা হয়।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ভুয়া সনদে চাকরি প্রদান, যথাযথ সরকারি অনুমোদন ও টেন্ডার ছাড়াই বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ এবং অপ্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে সরকারি অর্থের অপচয়সহ নানাবিধ দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর মাউশির মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান।

মাউশি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিনেও এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং-২০৬১৪/২০২৫) দায়ের করেন। সেই রিটের শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট মাউশির মহাপরিচালক এবং সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগটি তদন্ত করে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

কিন্তু আদালতের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও বিবাদী পক্ষ কোনো তদন্ত করেনি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি নোটিশ (লিগ্যাল নোটিশ) পাঠানো হলেও তার কোনো সদুত্তর মেলেনি।

আদালতের আদেশকে এভাবে অবজ্ঞা ও অমান্য করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী পক্ষ হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন (কনটেম্পট পিটিশন নং-২১৯/২০২৬) দায়ের করেন। সেই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়েই আদালত মাউশির মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে এই রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে মাউশি ডিজিকে সশরীরে বা আইনজীবীর মাধ্যমে এই রুলের জবাব দিতে হবে।