নড়াইলে যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

লেখক: মোহাম্মদ,মনিরুজ্জামান,চৌধুরী বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নড়াইলে যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

মোহাম্মদ,মনিরুজ্জামান,চৌধুরী,বিশেষ প্রতিনিধি:

নড়াইলে যৌতুক না পেয়ে গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার লাজিনা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধুকে দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের একপর্যায়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী আব্দুর রহমান ও শশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গের সামনে নিহতের স্বজনরা এসব অভিযোগ করেন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার চাঁচুড়ি নাঙ্গুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের স্বজনরা জানায়, পারিবারিকভাবে প্রায় পাঁচ বছর আগে একই উপজেলার চাঁচুড়ি নাঙ্গুলিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের সঙ্গে লাজিনার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লাজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলতে থাকে স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন। প্রথমে বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বামীর দাবিতে লাজিনার পরিবার দুই লাখ টাকা দেয়। পরে বিদেশ থেকে ফিরে ইজিবাইক কেনার জন্য আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হলে, আর্থিক অসচ্ছলতা সত্ত্বেও ধারদেনা করে সেই অর্থও দেওয়া হয়। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করে নিহতের পরিবারের।

স্বজনদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে লাজিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে কালিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে শুক্রবার নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহতের মামা জার্জিস শেখ জানান, লাজিনার ইচ্ছা ছিল তার সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়িয়ে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু তার অকাল মৃত্যু সেই স্বপ্ন অসমাপ্ত রেখে গেল। ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।

তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি, সকলে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কালিয়া থানার ওসি মো. ইদ্রিস আলী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।