সাইনবোর্ডে‘ভিক্ষুকমুক্ত’,বাস্তবে ভিক্ষুকে ভরপুর নড়াইল।

লেখক: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান চৌধুরী বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

সাইনবোর্ডে‘ভিক্ষুকমুক্ত’,বাস্তবে ভিক্ষুকে ভরপুর নড়াইল

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান চৌধুরী বিশেষ প্রতিনিধি

নড়াইল জেলার প্রবেশমুখে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একসময় বড় বড় অক্ষরে লেখা একটি সাইনবোর্ড পথচারীদের স্বাগত জানাত— “স্বাগতম, ভিক্ষুকমুক্ত নড়াইল জেলা।” কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সাইনবোর্ডের অক্ষর যেমন ধূলিমলিন হয়েছে, তেমনি ম্লান হয়ে গেছে এর বাস্তবতাও।জেলা শহরের ব্যস্ত সড়ক, বাস টার্মিনাল, রূপগঞ্জ বাজার, হাসপাতাল, আদালত চত্বর এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সামনে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে অসংখ্য ভিক্ষুকের উপস্থিতি। শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী,বিভিন্ন বয়সী মানুষ জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন হাত পাতছেন। অনেক ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমেও ভিক্ষাবৃত্তি পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একসময় নড়াইলকে ভিক্ষুকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে সেই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা আর চোখে পড়ে না। ফলে সরকারি ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে।সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কোনো জেলা ভিক্ষুকমুক্ত হয় না। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত তদারকি ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয় না।এখন প্রশ্ন উঠেছে—নড়াইল কি সত্যিই ভিক্ষুকমুক্ত, নাকি “ভিক্ষুকমুক্ত জেলা” কথাটি কেবল একটি বিবর্ণ সাইনবোর্ডেই সীমাবদ্ধ? বাস্তবতা বলছে, নতুন করে কার্যকর পরিকল্পনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ না করলে সেই সাইনবোর্ড শুধু একটি অতীতের স্মারক হিসেবেই রয়ে যাবে।