
শ্যামনগরে মায়ের দায়ের করা মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষক পুত্র কারাগারে।
ফয়েজ আহমেদ,সাতক্ষীরা,শ্যামনগর প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পারিবারিক বিরোধ ও জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরে বৃদ্ধা মাকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।জানা গেছে, উপজেলার কলবাড়ি গ্রামে শুক্রবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম (৭২)-এর ওপর চড়াও হন তার ছেলে মনিরুল ইসলাম ও পুত্রবধূ ফেরদৌসী ইসলাম ঝর্ণা। অভিযোগ রয়েছে, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মনিরুল ইসলাম তার মায়ের মুখে আঘাত করলে একটি দাঁত ভেঙে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় আনোয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ঘটনার পর ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ছেলে মনিরুল ইসলাম ও পুত্রবধূ ফেরদৌসী ইসলাম ঝর্ণাকে আসামি করে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং শনিবার (২৮ জুন) অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। মামলার অপর আসামি ফেরদৌসী ইসলাম ঝর্ণার বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শ্যামনগর থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, পারিবারিক বিরোধের এমন মর্মান্তিক পরিণতি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের অভিমত, সামান্য বিরোধের জেরে একজন বৃদ্ধা মায়ের ওপর হামলার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তারা পারিবারিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
