সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি, ভুক্তভোগী আপন পরিবার!
নিজস্ব প্রতিনিধি।
শ্যামনগরে কথিত সাংবাদিক মেহেদী হাসানের অপকর্ম
সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি! আর সেই চাঁদাবাজির শিকার এবার অন্য কেউ নন, খোদ নিজের আপন বড় ভাই ও মা। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কথিত সাংবাদিক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে উঠেছে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ দাবির তীব্র অভিযোগ। চাঁদা না দেওয়ায় আপন ভাইয়ের নামেই নিউজ পোর্টালে ছড়ানো হচ্ছে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এক আতঙ্কের নাম মেহেদী হাসান। নিজেকে পরিচয় দেন সাংবাদিক হিসেবে। সম্পাদনা করেন ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত’ ও ‘ডিএসডি টিভি’ নামের অনিবন্ধিত অনলাইন মাধ্যম। কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সাংবাদিকতার এই সাইনবোর্ডকে তিনি ব্যবহার করছেন মূলত চাঁদাবাজির হাতিয়ার হিসেবে।
এলাকাবাসীর পর এবার তার এই নোংরা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন তার নিজের পরিবারই।
মেহেদী হাসানের আপন বড় ভাই রনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে মেহেদী তার কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। কিন্তু অন্যায়ভাবে এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান রনি। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে কথিত এই সাংবাদিক। নিজের অনিবন্ধিত পোর্টালে আপন ভাইয়ের নামে একের পর এক সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করতে শুরু করে মেহেদী।
ছেলের এমন অপকর্মে স্তব্ধ স্বয়ং তাদের মা-ও। তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মেহেদী তার বড় ভাই রনির কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা চেয়েছিল। টাকা না পেয়ে সে নিজের ভাইয়ের নামে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সামাজিকভাবে পরিবারটিকে হেয় প্রতিপন্ন করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মেহেদী হাসানের এই অপরাধের খতিয়ান বেশ পুরোনো। এর আগেও ২০২৫ সালে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে টানা চার মাস কারাভোগ করেছিলেন তিনি।
বড় ভাই রনির বক্তব্য:
ভেবেছিলাম জেল থেকে বের হয়ে ও ভালো হয়ে গেছে, তাই পরিবার থেকে তাকে ছাড়িয়ে এনেছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি—কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না। আগে শুনতাম বাইরে চাঁদাবাজি করে, আর এখন আমি নিজেই তার ভুক্তভোগী।"
সাংবাদিকতার মতো একটি পবিত্র পেশাকে পুঁজি করে যারা আপন পরিবার এবং সমাজকে জিম্মি করছে, তাদের রুখবে কে? ভুক্তভোগী পরিবারটি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন—এই কথিত সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।