কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন "জমি বিক্রির নামে অর্থ আত্মসাৎ ও বসতভিটা দখলচেষ্টার অভিযোগ
শেখ মারুফ হোসেন,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর মৌজার খাসজমি ও বসতভিটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুই ভুক্তভোগী পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে তারা জমি বিক্রির নামে অর্থ গ্রহণ করে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, বসতভিটা দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং তাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলকৃত সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা খাতুন এবং আশারফ গাজীর স্ত্রী শাহানারা পারভীন।
লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, কৃষ্ণনগর মৌজার ২৩৩ নম্বর খাস জমিতে তাদের পরিবার প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। সরকারি বিধি মোতাবেক তারা দুই দফায় ডিসিআর (ডিমান্ড কালেকশন রেজিস্টার) প্রাপ্ত হয়ে জমি ভোগদখল করছেন। চলতি বছর পুনরায় ডিসিআর প্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করা হয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের বৈধ ভোগদখল ও সরকারি কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে।তারা আরও বলেন, তাদের পুরোনো বসতঘরটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এ অঞ্চলে পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঘর সংস্কার ও নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চলছে।সংবাদ সম্মেলনে শাহানারা পারভীন অভিযোগ করেন, প্রায় তিন বছর আগে বেনাদনা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ সরদারের ছেলে তৌফিক রহমান জমি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে অগ্রিম ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। অর্থ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে একটি ব্যাংক চেক প্রদান করা হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি এবং গ্রহণকৃত অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।তিনি বলেন, একাধিকবার টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। সর্বশেষ পাওনা টাকা দাবি করতে গেলে তাকে হুমকি ও অশোভন আচরণের মুখোমুখি হতে হয়। এছাড়া তৌফিক রহমানের সহযোগী ও ভাড়াটিয়া হিসেবে পরিচিত শংকরপুর গ্রামের দাউদ তরফদারের ছেলে আলমগীর তরফদার বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি এবং বসতভিটা জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত এ বিরোধের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, বসতভিটার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, একই ঘটনায় এর আগে কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।